আরো সাত হাজার শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি মার্চে

টিবিটি চাকরের খবর: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আরো সাত হাজার শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি মার্চ মাসে প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর (ডিপিই)।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. রমজান আলী গণমাধ্যমকে জানান, ২০১৪ সালের স্থগিত হওয়া ১০ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম বর্তমানে চলছে। এ কার্যক্রম এপ্রিলের মধ্যে শেষ করা হবে। এর আগেই নতুন করে আরো সাত হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে। মার্চে এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

ডিপিই সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে ৬৪ হাজার ৮২০টি। এর মধ্যে প্রায় ২০ হাজার স্কুলে প্রধান শিক্ষক নেই। সহকারী শিক্ষকের ১৭ হাজার পদ শূন্য। এসব পদ পূরণে রাজস্ব খাতে নতুন করে এ সাত হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে।

এর আগে মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছিল, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পুল ও প্যানেলভুক্ত ১৭ হাজার সহকারী শিক্ষক-শিক্ষিকাকে চলতি মাসেই নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় আগামী ৩০ মার্চের মধ্যেই তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করবে। একযোগে সরকারি চাকরিতে এটিই হবে স্মরণকালের মধ্যে সবচেয়ে বড় নিয়োগ।

উল্লেখ্য, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ দিতে পরীক্ষা নিয়ে ২০১২ সালের ৮ এপ্রিল ৪২ হাজার ৬১১ জনের মেধা তালিকা প্রকাশ করেছিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে ১০ হাজার ৫১৪ জন নিয়োগ পান। বাকি ২৮ হাজারের বেশি প্রার্থী তখন নিয়োগ বঞ্চিত হন। পরে তারা আদালতে মামলা করেন। ওই সময় দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়। আদালতের নির্দেশে গত বছর কিছু সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ পান।

অপরদিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের শূন্য পদ পূরণ করতে একটি ‘শিক্ষক পুল’ তৈরির লক্ষ্যে ২০১১ সালের ৪ আগস্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এরপর এ বিষয়ের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় ২৭ হাজার ৭২০ জন উত্তীর্ণ হন। তাদের মধ্য থেকে তখন ১২ হাজার ৭০১ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়। বাকি ১৫ হাজার ১৯ জনকে নীতিমালার আলোকে পুলভুক্ত করে রাখা হয়।

কথা ছিল, পুলের শিক্ষকরা উপজেলায় সংযুক্ত থাকবেন। যে স্কুলে শিক্ষকের সংকট দেখা দেবে, সেখানে সাময়িকভাবে পদায়ন করা হবে। কিন্তু একসময় এসব প্রার্থীর প্রত্যাশা বেড়ে যায়। ২০১৪ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি হলে পুলভুক্ত শিক্ষকরা তাদের নিয়োগের দাবিতে মামলা করেন। স্থায়ী নিয়োগ না দিয়ে বিজ্ঞপ্তি দেয়ায় এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়। এরপর শিক্ষকদের পক্ষ থেকে আরো একাধিক মামলা হয়। এসব মামলা নিষ্পত্তির পর আদালতের রায়ের আলোকেই আবার নতুন করে নিয়োগ পাচ্ছেন শিক্ষকরা।

LEAVE A REPLY

এখানে কমেন্ট করুন
Please enter your name here