কুড়িগ্রামের রাজারহাটে অপরিকল্পিত ভাবে বালু উত্তোলনঃ হুমকীর মুখে বাঁধসহ বসতভিটা ও ফসলি জমি

বাদশাহ্ সৈকত, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি ঃ কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় ধরলা নদী কবলিত কালুয়ার চরে অপরিকল্পিত ভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে গভীর থেকে বালু উত্তোলন করায় পূনঃনির্মানাধীন একটি বাঁধ সহ গ্রামের বহু মানুষের বসত ভিটা ও ফসলি জমি হুমকীর সম্মূখীন হয়ে পরেছে। এঘটনায় বালু উত্তোলন বন্ধের দাবীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট অভিযোগ দাখিল করেছেন ভূক্ত ভোগীরা।

সরেজমিনে জানা গেছে, রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নে ধরলা নদী কবলিত কালুয়ার চর গ্রামে নদীর তীর সংরক্ষন বাঁধ পূনঃ নির্মাণ কাজের দরপত্র প্রাপ্তির পর ঠিকাদার বেলাল হোসেন এলাকার প্রভাবশালী বালু ব্যবসায়ী আঃ রাজ্জাককে বালু সরবরাহের কন্ট্রাক্ট প্রদান করেন। আঃ রাজ্জাক নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে নির্মাণাধীন বাঁেধর সন্নিকটে ধরলা নদীর সংযোগ নালার একটি স্থানে তিনটি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে প্রায় ৫০/৬০ফিট গভীর করে প্রায় একমাস যাবৎ একই স্থান থেকে বালু উত্তোলন করে আসছেন।

কালুয়ার চরের বাসিন্দা আবুল হোসেন অভিযোগ করেন, নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে একমাস যাবত নির্মানাধীন বাঁধের পাশ থেকে ব্যাপক এলাকা জুড়ে গভীর থেকে অনবরত বালু উত্তোলন করায় এর দুইধারে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে।

কালুয়ার চর গ্রামের ইউসুফ আলী ও ফাতেমা জিন্নাহ অভিযোগ করেন, ইতোমধ্যে তাদের ২৪ শতক ভুট্রা ক্ষেতের বেশির ভাগ জমি ভেঙ্গে পড়েছে। এছাড়া তাদের নামে সেটেলমেন্ট ও সিএস, আরএস রেকর্ড ভূক্ত জমির উপর আঃ রাজ্জাক ও তার লোকজন জোর জবরদস্তি করে তিনটি ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন অব্যাহত রাখায় তার ৭০শতক জমি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে জানান তারা।
ওই গ্রামের সাহেব আলী জানান, এভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে বর্ষা মৌসুমে ওই বাঁধ সহ গ্রামের বহু মানুষের ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি ভাঙ্গনের কবলে পরতে পারে।

তবে এবিষয়ে ঠিকাদার বেলাল হোসেনের সাথে তার মুঠো ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বালু ব্যবসায়ী আঃ রাজ্জাক বলেন, জমির মালিক নাজেম মিয়ার কাছ থেকে কন্ট্রাক্টে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে, ইউসুফ আলীরা এই জমির মালিক নয়।

রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহ. রাশেদুল হক প্রধান অভিযোগ প্রাপ্তির সত্যতা স্বীকার করে জানান, ওই স্থান থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এরপরও বালু উত্তোলন করা হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তবে কুড়িগ্রাম পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম জানান, ওই স্থান থেকে বালু উত্তোলন করার কারনে কোন ক্ষতি হওয়ার সম্ভবনা নেই। নতুন পানি হলে ঠিক হয়ে যাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here