বউ শাশুড়ি হত্যাকান্ডে সংশ্লিষ্টতায় শুভ-তালেব গ্রেফতার

ছনি চৌধুরী,হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃনবীগঞ্জ উপজেলার সাদুল্লাপুর গ্রামে বউ-শাশুড়ি হত্যাকান্ডে ৩দিন ব্যাপী ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে হত্যা সংশ্লিষ্টতায় সাদুল্লাপুর গ্রামের বখাটে শুভ রহমান ও আবু তালেবকে দায়েরকৃত হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে । বুধবার বিকেলে তাদের গ্রেফতার দেখানো হয় । গত রবিবার রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে প্রতিবেশী ফুরুক মিয়ার বাড়ির কাজের ছেলে আবু তালেব,প্রতিবেশী ক্বারী আব্দুস ছালাম,তার ছেলে সহিদুর রহমান,একই গ্রামের শুভ রহমান ও রিপন সুত্রধরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। আটককৃতদের মধ্যে ক্বারী আব্দুস ছালাম,তার ছেলে সহিদুর রহমান,একই গ্রামের রিপন সুত্রধরকে চেয়ারম্যানের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এছাড়াও হত্যাকান্ডে সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় সাদুল্লাপুর গ্রামের বখাটে শুভ রহমান ও আবু তালেবকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে ।

নবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) এস.এম আতাউর রহমান বলেন, বউ-শাশুড়ি হত্যাকান্ডে শুভ রহমান ও আবু তালেব এর সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে অপর আটককৃতদের প্রাথমিক ভাবে জড়িত থাকার কোনো প্রমান না পাওয়ায় তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে । বৃহস্পতিবার শুভ ও তালেবকে আদালতে প্রেরণ করার কথা রয়েছে ।

উল্লেখ্য,গত রবিবার রাত ১১ টায় উপজেলার কুর্শি ইউনিয়মের সাদুল্লাপুর গ্রামে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হন সাদুল্লাপুর গ্রামের মৃত রাজা মিয়ার স্ত্রী ও লন্ডন প্রবাসী পুত্র আখলাক চৌধুরীর মা মালা বেগম, বউ রুমি বেগম। রবিবার রাতে আত্মচিৎকার শুনে গ্রামবাসী ওই বাড়িতে গিয়ে ঘরের বাহিরে উঠানে গৃহবধূ রুমি বেগম ও ঘরের ভিতরে তার শাশুড়ি মালা বেগমের ক্ষতবিক্ষত লাশ দেখতে পান। এসময় তাদের উদ্ধার করে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার খবর পেয়ে নবীগঞ্জ থানা পুলিশ হাসপাতাল গিয়ে লাশ দু‘টির সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করে। এঘটনার পর ঘর থেকে ৪টি চায়ের কাপ,একটি হাতঘড়ি ও এক টি জুতা উদ্ধার করে বলে জানাযায়। মঙ্গলবার সকাল ১১টায় স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে জানাযার নামাজ শেষে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়। জানাযার নামাজে হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে । এর আগে দাফন কাজে অংশ নিতে গত সোমবার রাতে দেশে আসেন নিহত রুমির স্বামী ও মালা বেগমের ছেলে আখলাক চৌধুরী ওরফে গুলজার ও গুলজারের বড় ভাই আলতা মিয়া চৌধুরী। গত সোমবার রাতে নিহত রুমি বেগমের বড় ভাই পল্লী চিকিৎসক নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামী করে নবীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন । এ হত্যাকাÐের পর থেকেই নবীগঞ্জ থানা পুলিশের পাশাপাশি, পিবিআই, ডিবি,ডিএসবি,র‌্যাবসহ বিভিন্ন গোয়েস্থা সংস্থার টিম ঘটনার রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে ।